Showing posts with label alk029. Show all posts
Showing posts with label alk029. Show all posts

জানাজানি

আসাদ চৌধুরী


বাংলাদেশের পাখি কেন মধুর সুরে ডাকে,
জানো?
জানি জানি জানি।
পাখির ভাষার মান দিতে যে
বাঙালি দেয় জান-
পাখি যে তা জানে,
তাইতে পাখি পাগল করে,
বিহান বেলার গানে।

বাংলাদেশের আকাশ কেন কপালে টিপ আঁকে,
জানো?
জানি জানি জানি।
উদার আকাশ যে - ইশারায়
ডাক দিয়ে যায় প্রাণে,
বাঙালি তা জানে।
তাইতো আকাশ টিপ দিয়ে যায়,
ললাটের মাঝখানে।

শহীদদের প্রতি


আসাদ চৌধুরী

তোমাদের যা বলার ছিল
বলছে কি তা বাংলাদেশ ?
শেষ কথাটি সুখের ছিল ?
ঘৃণার ছিল ?
নাকি ক্রোধের,
প্রতিশোধের,
কোনটা ছিল ?
নাকি কোনো সুখের
নাকি মনে তৃপ্তি ছিল
এই যাওয়াটাই সুখের।
তোমরা গেলে, বাতাস যেমন যায়
গভীর নদী যেমন বাঁকা
স্রোতটিকে লুকায়
যেমন পাখির ডানার ঝলক
গগনে মিলায়।
সাঁঝে যখন কোকিল ডাকে
কারনিসে কি ধুসর শাখে
বারুদেরই গন্ধস্মৃতি
ভুবন ফেলে ছেয়ে
ফুলের গন্ধ পরাজিত
স্লোগান আসে ধেয়ে।
তোমার যা বলার ছিল
বলছে কি তা বাংলাদেশ ?

সত্য ফেরারী

আসাদ চৌধুরী

কোথায় পালালো সত্য?
দুধের বোতলে, ভাতের হাঁড়িতে! নেই তো
রেষ্টুরেন্টে, হোটেলে, সেলুনে,
গ্রন্থাগারের গভীর গন্ধে,
টেলিভিশনে বা সিনেমা, বেতারে,
নৌকার খোলে, সাপের ঝাঁপিতে নেই তো।

গুড়ের কলসি, বিষের কৌটো,
চিনির বয়াম, বাজারের ব্যাগ,
সিগারেট কেস, পানের ডিব্বা,
জর্দার শিশি, লক্ষ্মীর সরা,
নকশী পাতিল, চৌকির তলা,
সবি খুঁজলাম, খুঁজে দেখলাম নেই তো!

সাংবাদিকের কাঠের ডেস্কে,
কাগজে, কেতাবে, পুঁথিতে, কলমে,
ইনজেকশনে, দাঁদের মলমে,
ভ্যানিটি ব্যাগে বা পকেটে, আঁচলে
ড্রয়ারে, ব্যাংকে, আয়রণ সেফে
সত্য নামক মহান বস্তু নেই তো!

কবিতায় নেই, সঙ্গীতে নেই
রমণীর চারু ভঙ্গিতে নেই
পাগলের গাঢ় প্রলাপেও নেই
নাটকের কোন সংলাপে নেই
শাসনেও নেই, ভাষণে নেই
আঁধারেও নেই, আলোতেও নেই
রেখাতেও নেই, লেখাতেও নেই,
উত্তরে নেই, প্রশ্নেও নেই
লেবাসে নেই, সিলেবাসে নেই
পারমিটে নেই, বোনাসেও নেই
হতাশায় নেই, আশাতেও নেই
প্রেম-প্রীতি ভালবাসাতেও নেই
এমন কি কালোবাজারেও নেই
কোথায় গেলেন সত্য?

প্রথম কবি তুমি, প্রথম বিদ্রোহী

আসাদ চৌধুরী

মাত্র পা রেখেছ কলেজে সেই বার,
শব্দ দিয়ে গাঁথো পূর্ব সীমান্তে
সাহসী ‘সীমান্ত’।
দ্বিজাতিতত্ত্বের লোমশ কালো থাবা
শ্যামল সুন্দর সোনার বাংলাকে
করেছে তছনছ, গ্রাম ও জনপদে
ভীতির সংসার, কেবল হাহাকার।

টেবিলে মোমবাতি কোমল কাঁপা আলো
বাহিরে বৃষ্টির সুরেলা রিমঝিম_
স্মৃতির জানালায় তোমার মৃদু টোকা।
রূপার সংসারে অতিথি সজ্জন
শিল্পী কতজন হিসেব রাখিনি তো!
স্মরণে ওস্তাদ_ গানের মমতাজ।
দারুণ উচ্ছ্বাস, সামনে চা’র কাপ
প্রধান অতিথি তো আপনি, বলবেন_
কিন্তু তার আগে এ ঘোর বরষায়
সমানে বলছেন নিজের সব কথা।
ওয়াজিউল্লাহ ইনস্টিটিউটে
ভাষণ, প্রতিবাদ_ যাত্রা, থিয়েটার
রমেশ শীল আর আবুল ফজলের,
কলিম শরাফীর সাহসী আচরণ
কী হলো? কী হয়েছে? আজ তো আপনার
মুখে যে খৈ ফোটে! স্বপ্ন-স্মৃতি দোলে।

দ্বিজাতিতত্ত্বের কবর খুঁড়ছো
সঙ্গী বেড়ে চলে, সঙ্গে সঙ্গীত
নাটক, সাহিত্য, সাম্প্রদায়িকতা
ঘেঁষতে পারছে না, আপনি লিখবেন
অমর কবিতাটি জ্বরের ঘোরে, একা
প্রেসের ছোট ঘরে_ আঙুল কাঁপছিল?
কর্ণফুলী সেও জোয়ারে ফুঁসছিল_
নদীরা চঞ্চল সাগরে মিশবে যে।

ঢাকা ও কলকাতা, সুচক্রদণ্ডী
কুনতি, কুমিল্লা কোথায় নেই কবি?
সেই তো শুভ শুরু, শহীদ মিনারের
আকুল হাতছানি, মিশেছে সাভারে
অটল স্থাপনায়।
এই কি শেষ তবে?
প্রতিটি অর্জন ধুলায় মিশে যায়,
নতুন উৎপাত মৌলবাদ আর
জঙ্গীবাদ আসে, পশ্চিমের থেকে,
মানবাধিকারের লালিত বাণী যেনই
স্বেচ্ছাচারিতার প্রতাপ চৌদিকে_
দৃপ্ত পায়ে কবি কাতারে মিছিলের
কারফু কার ফুঁতে ওমন ক’রে ভাগে?

কবি কি দেখছেন প্রমিত বাংলার
করুণ হালচাল? ভাষণে, সংলাপে
সিনেমা, থিয়েটারে ছোট্ট পর্দার
যাদুর বাক্সতে এ কোন বাংলার
মাতম ছড়াছড়ি? হায় রে মূলধারা!

প্রথম কবি তুমি, প্রথম বিদ্রোহী
এমন দুর্দিনে তাই তো মনে পড়ে
তোমার হাসি মুখ, তোমার বরাভয়
ভীরুতা চারদিকে, তুমিও নেই পাশে।

তখন সত্যি মানুষ ছিলাম

আসাদ চৌধুরী

নদীর জলে আগুন ছিল
আগুন ছিল বৃষ্টিতে
আগুন ছিল বীরাঙ্গনার
উদাস করা দৃষ্টিতে।
আগুন ছিল গানের সুরে
আগুন ছিল কাব্যে,
মরার চোখে আগুন ছিল
এ কথা কে ভাববে ?
কুকুর-বেড়াল থাবা হাঁকায়
ফোঁসে সাপের ফণা
শিং কৈ মাছ রুখে দাঁড়ায়
জ্বলে বালির কণা।
আগুন ছিল মুক্তিসেনার
স্বপ্ন-ঢলের বন্যায়-
প্রতিবাদের প্রবল ঝড়ে
কাঁপছিল সব অন্যায়।
এখন এসব স্বপ্নকথা
দূরের শোনা গল্প,
তখন সত্যি মানুষ ছিলাম
এখন আছি অল্প।